নরসিংদির শিবপুর থেকে প্রকাশিত একটি ঘটনায়, চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও জালিয়াতি চক্রের প্রধান মোঃ ফারুক ও মোঃ রমজান আলীর বিরুদ্ধে এক বয়োবৃদ্ধের জমি মিথ্যা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি বয়োবৃদ্ধ ও নিরক্ষর হওয়ায় ভূমিদস্যুদের পায়তারা ব্যবহার করে তার জমি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। রফিকুল ইসলাম বলেন, "আমি দ্বারে দ্বারে ঘুরছি এই অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে রক্ষা পেতে, কিন্তু তারা নানা ধরনের হুমকিসহ আমাকে হয়রানি করছে।"
জমি খারিজের প্রলোভন দেখিয়ে বায়না দালিলে স্বাক্ষর নিতে গিয়ে রমজান আলী ও ফারুক বিভিন্ন কৌশলে জমির কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছিলো বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তারা পশ্চিম সরকারের আমলে এই ধরনের অবৈধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে এবং বর্তমানে কোটি কোটি টাকার মালিক। ভুয়ো কাগজপত্র তৈরি করে জমি দখল তাদের নিয়মিত কার্যক্রম।
মোঃ রফিকুল ইসলাম আরো জানান, জমির খারিজ নামজারি বাবদ তিনি ফারুককে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছেন। পরে জানতে পারেন, জমির নামে তারা বায়না দালিলে ৫০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। "ফারুক ও রমজান আমার জমির প্রধান দলিল আটকে রেখেছে এবং জোরপূর্বক আমার বাড়ির গাছ কেটে নিয়েছে। তারা প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে, আমার স্ত্রীও আশঙ্কায় রয়েছেন," তিনি বলেন।
স্থানীয় গ্রাম্য পঞ্চায়েতের সদস্য মো. মুতি মিয়া জানান, ফারুক ও রমজান এই এলাকায় ভূমিদস্যু ও ভূমি দালাল হিসেবে পরিচিত। তারা নিয়মিত সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও জালিয়াতি করে অবৈধ সম্পদ সঞ্চয় করছে। একই অভিযোগ করেছেন এলাকার অসহায় সাধারন মানুষরাও।
অভিযুক্ত ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন নিষ্ক্রিয় পাওয়া যায়। এ ঘটনার তদন্তের জন্য নরসিংদির শিবপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এই জটিল জালিয়াতির বিষয়ে সিআইডির হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় নরসিংদির শিবপুরের ভূমি সংক্রান্ত দুর্নীতির প্রতিকার ও সাধারণ মানুষের পূর্ণ নিরাপত্তা দাবি করা হচ্ছে।
0 Comments