সিরাজগঞ্জঃ নানান হিসেব-নিকাশ শেষে অবশেষে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের (উল্লাপাড়া-সলঙ্গা) প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম. আকবর আলী। যদিও আকবর আলী এখনো চূড়ান্ত প্রার্থী নন বলে জানিয়েছে দলটি। প্রয়োজনে প্রার্থিতা পরিবর্তনও হতে পারে বলে মনোনয়ন ঘোষণার দিনই জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে, এই আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত। তাকে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবেই ধরা হচ্ছে।
উল্লাপাড়ার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বিএনপির ঘোষিত প্রার্থীকে যদি অবিলম্বে পরিবর্তন না করা হয়, তাহলে এই আসনে বড় ব্যবধানে পরাজিত হবে দলটি। কারণ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আকবর আলী এত কম ভোট পেয়েছিলেন যে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। এবার আওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না থাকলেও, বিএনপির প্রার্থী আকবর আলী জামায়াতের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খানের কাছে পরাজিত হতে পারেন।
বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে (উল্লাপাড়া-সলঙ্গা) প্রার্থী পরিবর্তন করে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজাদ হোসেনকে প্রার্থী করা হলে অন্তত ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপি জয়লাভ করবে। কারণ তিনি গত ১৫ বছর ধরে এই আসনে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। নানাভাবে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ যেমন মামলা করেছে, তেমনি জামায়াতও একাধিকবার তার ওপর হামলা চালিয়েছে।
আজাদ হোসেন ১৯৮৭ সালে উল্লাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে তিনি উপজেলা যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং একটানা ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন। একই সময়ে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। এরপর তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত উল্লাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন, যা এখনো বহাল আছে।
আজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে গত ১৬ বছরে ৪১টি মামলা হয়েছে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের আরও দাবি, সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া-সলঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল ওহাব, সদস্য সচিব আজাদ হোসেন, পুলিশের সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান জ্যোতি, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কে.এম. শরফুদ্দীন মঞ্জু এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাওসার আহমেদ রনি। তবে নেতাকর্মীদের মতে, আজাদ হোসেনই এই আসনের একমাত্র যোগ্য প্রার্থী। বিএনপি তাকে মনোনয়ন দিলে দলটি ভালো করবে।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আকবর আলীর বর্তমান বয়স প্রায় ৯০ বছর। তিনি একা চলাফেরা করতে পারেন না; দুই পাশে দুজন ধরে তাকে চলতে হয়। কেন্দ্রীয় নেতা হয়েও তার জনপ্রিয়তা আজাদের চেয়ে কম। তিনি এলাকায় তেমন যেতেন না এবং সবসময় ঢাকাতেই অবস্থান করতেন। অথচ আজাদ হোসেন ১৯৮৭ সাল থেকে এলাকার মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে বিএনপির রাজনীতি করে আসছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। তাই এলাকার মানুষ বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আজাদ হোসেনকেই দেখতে চান।
1 Comments
পাগলে কি না কয়,, এম আকবর আলীর জনপ্রিয়তার ধারের কাছেও কেও নাই,
ReplyDelete