ফরিদপুরের আলোচিত দোলনের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা কমিশন বাণিজ্য, পুলিশ নিয়োগে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, ধর্ষণ ও প্রতারণাসহ একাধিক মামলার অভিযোগ—৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে থেকে বিএনপিতে ভেড়ার চেষ্টা
জীবনে একদিনও কৃষি কাজ না করেও কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির পদে আসীন হয়েছিলেন আরিফুর রহমান দোলন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই ও সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দোলন আওয়ামী লীগের হয়ে ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারি-আলফাডাঙ্গা) আসনে মনোনয়ন চাইতে রাজনৈতিক তৎপরতা চালালেও বর্তমানে বিএনপি নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
দোলনের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। মোশাররফ হোসেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে দোলনের “রাজত্ব” ছিল বলেই অভিযোগ স্থানীয়দের। শ্রমিকদের বিদেশগমনের অনুমতি আটকে রেখে প্রতিটি নিয়োগে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা কমিশন নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বিনা কমিশনে কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি বিদেশে কর্মী পাঠাতে পারত না।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মোশাররফ হোসেনের সময়ও দোলনের প্রভাব ছিল ব্যাপক। অভিযোগ রয়েছে, শেখ রেহানা ও তার মেয়ে পুতুলের স্বামীর ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নেন তিনি। স্থানীয় সরকার বিভাগে কাজ করতে চাইলে ১০ শতাংশ কমিশন ছিল বাধ্যতামূলক।
দোলন জনশক্তি রপ্তানি সিন্ডিকেটে নূর আলীর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন, যেখানে তার প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল ‘ক্যারিয়ার ওভারসীস’। ফরিদপুরের সাবেক পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহার সঙ্গে অংশীদারিত্বে পুলিশ নিয়োগে দুর্নীতিরও অভিযোগ রয়েছে। কনস্টেবল ও এসআই নিয়োগে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সুভাষের কাছ থেকে ৮ কোটি টাকার বেশি উদ্ধার হলেও দোলন ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
রুবেল-বরকত চক্রের সহযোগী হিসেবে দোলনের নাম উঠে আসে আড়াই হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলাতেও। ২০২৩ সালের ৫ মার্চ এ মামলায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়, পরে জামিনে মুক্ত হন। ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টনসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা মামলা হয়, কিন্তু তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
এছাড়া, ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও প্রতারণার মামলা হয় (মামলা নং ১৫/২৫)। অভিযোগ অনুযায়ী, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার তৃপ্তি খানমের সঙ্গে ২০১৯ সালে পরিচয়ের পর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মিরপুরে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বসবাস করেন দোলন। বাদীর দাবি, দীর্ঘ পাঁচ বছরের সম্পর্কের মধ্যে গর্ভধারণের পর তাকে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেন এবং পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি অফিসে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, হাওয়া ভবনের ঘনিষ্ঠ দোলন একসময় আওয়ামী লীগের কৃষক লীগে প্রভাবশালী পদে ছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে দোলন বলেন, “আমি রাজনীতি ও সাংবাদিকতা করি। প্রতিপক্ষ আমাকে ফাঁসাতে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

0 Comments