গভীর সাগরে আধুনিক প্রযুক্তিতে মাছ ধরার অনুমতি দাবি জেলেদের




ভারতীয় জেলেদের দৌরাত্ম্যে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি মৎস্যশিল্প—অভিযোগ ট্রলার মালিক সমিতির

বাংলাদেশি জেলেদের গভীর সাগরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ ধরার অনুমতি না দেওয়ায় প্রতিবেশী ভারতের জেলেদের কাছে পিছিয়ে পড়ছে দেশের মৎস্যশিল্প। ভারতীয় জেলেরা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা থেকে অধিক পরিমাণে মাছ শিকার করছে—বুধবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বাংলাদেশ আর্টিসান ও মেকানাইজ ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. মাসুম।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আ. সুক্কুর আলীসহ অন্যান্য সদস্যরা। বক্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মৎস্য অধিদপ্তর ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে গভীর সাগরে (৪০ মিটারের বেশি গভীরতায়) মাছ ধরার অনুমতি চেয়ে আসলেও তা এখনো দেওয়া হয়নি। অথচ প্রধান উপদেষ্টা গভীর সাগরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মৎস্য আহরণের নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

ভারতীয় জেলেদের প্রযুক্তিগত সুবিধা
বক্তারা অভিযোগ করেন, ভারতের জেলেরা জিপিএস, সোনার, রাডার, নেভিগেশন চার্ট, ইকো সাউন্ডার, ফিশ ফাইন্ডার এবং মেরিন ডেটা ব্যাংকের মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ মাছ আহরণ করছে। এর ফলে বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমায় থাকা ৩৭৩ প্রজাতির মাছের মধ্যে মাত্র ৩০ প্রজাতির মাছই ধরা সম্ভব হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তির অভাবে বাকি ৩৪৩ প্রজাতির মাছ শিকার করা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশি জেলেদের সীমাবদ্ধতা
সংগঠনটির দাবি, বাংলাদেশি জেলেরা এখনও প্রথাগত কাঠের ট্রলার ও ম্যানুয়াল জাল ব্যবহার করে, যা গভীর সাগরে বৃহৎ পরিসরে মাছ আহরণের ক্ষেত্রে অকার্যকর। অথচ দেশের মৎস্যশিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করা গেলে জেলেরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে এবং বাজারে মাছের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষও ন্যায্যমূল্যে মাছ ক্রয় করতে পারবেন।

"আমাদের সমুদ্রসীমায় মাছের প্রজনন হয়, কিন্তু উন্নত প্রযুক্তি ছাড়া আমরা তা আহরণ করতে পারি না। ভারতীয় জেলেরা এসে আমাদের সীমানা থেকে মাছ নিয়ে যাচ্ছে, অথচ আমরা আইন ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে আছি,"—অভিযোগ করেন মো. মাসুম, সভাপতি, বাংলাদেশ আর্টিসান ও মেকানাইজ ট্রলার মালিক সমিতি।

সমাপনী মন্তব্য:
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা প্রধান উপদেষ্টা ও মৎস্য উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত গভীর সাগরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ ধরার অনুমতি প্রদানের দাবি জানান। তাদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের মৎস্যশিল্প যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি বিদেশি জেলেদের দৌরাত্ম্যও কমে আসবে।

Post a Comment

0 Comments