সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার) আসনে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক উত্তাপ। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়লেও সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী, সাবেক এমপি মরহুম ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন (লেচু মিয়া)-এর কন্যা সৈয়দা আদিবা হোসেন। তরুণ, শিক্ষিত ও প্রগতিশীল এই নারী রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের কণ্ঠস্বর হিসেবে উঠে এসেছেন। বাবার জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি নিজের গতিশীলতা, স্পষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততার মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠছেন এ জনপদের নারী নেতৃত্বের নতুন সম্ভাবনা। প্রতিদিনই দেখা যায়, তিনি কখনো গ্রামের উঠান বৈঠকে, কখনো স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে, আবার কখনো বাজারে সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন। বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি তিনি নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরছেন—যার মধ্যে রয়েছে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, তরুণদের কর্মসংস্থান, নারী ক্ষমতায়ন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা। তার সভা ও বৈঠকগুলোতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন।
স্থানীয় বাসিন্দা রাবেয়া বেগম বলেন, "একজন নারী হিসেবে আদিবা আপা আমাদের সাহস জোগাচ্ছেন। আমরা চাই তিনি এগিয়ে যান এবং নারীদের জন্য কাজ করুন।" বিয়ানীবাজারের প্রবীণ ভোটার আসাদ উদ্দিনের মতে, "তিনি সৎ, শিক্ষিত ও পরিশ্রমী। এমন নেতৃত্ব পেলে আমাদের এলাকার অনেক উপকার হবে।" গত ১৭ জুলাই লন্ডনের কিংস্টনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সৈয়দা আদিবা হোসেন। সেখানে তিনি সিলেট-৬ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তারেক রহমান তাকে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখা, এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখা এবং দলের রাজনীতিকে আরও গতিশীল করার পরামর্শ দেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দিকনির্দেশনা তার মনোবল ও উৎসাহ বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে।
৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে গোলাপগঞ্জ পৌর বিএনপির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, "আমার অঙ্গীকার উন্নয়ন, ন্যায়বিচার এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, চাই রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্প্রীতি—যেখানে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে।" ৮ আগস্ট গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের উপজেলা শাখার সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, "সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মীকে পাশে নিয়ে আমি মাঠে থাকতে চাই। এই এলাকা ও জনগণের জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা থাকবে।" সভায় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হেলালুজ্জামান হেলাল, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে তার পরিবারের নামে প্রতিষ্ঠিত পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিক্ষার মান উন্নয়ন, অবকাঠামো আধুনিকায়ন, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি এবং এলাকার প্রবাসী কমিউনিটির সঙ্গে আরও শক্তিশালী যোগাযোগ তৈরি করার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নারী নেতৃত্বের উত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন বার্তা বহন করছে এবং সৈয়দা আদিবা হোসেন সেই নতুন বার্তার প্রতীক। দুই উপজেলার ভোটারদের মধ্যে এখন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের নতুন দিন কি আসছে সৈয়দা আদিবা হোসেনের হাত ধরে? সময়ই এর উত্তর দেবে।
0 Comments