উচ্চ মাধ্যমিক ও পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী ছাড়াই দুই দশকের বেশি সময় ধরে এমপিওভুক্ত; বছরে কোটি টাকার সরকারি অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ
বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ দীর্ঘদিন ধরে সরকার থেকে মাসিক বেতনভাতা (এমপিও) সুবিধা পাচ্ছে, যদিও প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে কেবল অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে—যা সরকারি এমপিও কাঠামোর আওতায় পড়ে না। এতে করে সরকারি অর্থের অপব্যবহার ও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, এমপিওভুক্তির জন্য একটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর এবং পর্যাপ্ত শিক্ষার্থীসহ পাস কোর্স থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক নেই এবং বিএসসি পাস কোর্সে শিক্ষার্থী সংখ্যা নগণ্য—গড়ে মাত্র ২ থেকে ৩ জন। ১৯৯৯ সালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এমপিওভুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি।
সরেজমিন তথ্য
চলতি শিক্ষাবর্ষে বিএসসি পাস কোর্সে প্রথম বর্ষে ২ জন, দ্বিতীয় বর্ষে ২ জন এবং তৃতীয় বর্ষে মাত্র ১ জন ছাত্রী ভর্তি রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এদের কেউই পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। তবুও এই কোর্সের আড়ালে কলেজটি মাসে ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এমপিও সুবিধা নিচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের অধীনে পরিচালিত গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের শিক্ষার্থীরা মূলত অনার্স কোর্সে ভর্তি হন—যেমন খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান, শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক, বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়ন শিল্প ইত্যাদি। এসব কোর্স সরকারি এমপিও কাঠামোর আওতাভুক্ত নয়।
প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকদের মতে, যখন একই ধরনের অন্য গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজগুলো এমপিও সুবিধা পাচ্ছে না, তখন একমাত্র এই কলেজের এমপিওভুক্তি প্রশাসনিক বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির উদাহরণ।
এ বিষয়ে কলেজ কমিটির চেয়ারম্যানের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে অফিস সূত্রে জানা যায়, তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
একজন শিক্ষা নীতি বিশেষজ্ঞ বলেন, "এ ধরনের অব্যবস্থাপনা অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার। ইতোমধ্যে যে সরকারি অর্থ প্রদান করা হয়েছে, তার নিরীক্ষা ও পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি।"
সমাপ্তি টোন
প্রশাসনিক শৈথিল্য ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি অর্থ ব্যয়ের এই অনিয়ম চলতে থাকলে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য ও অপচয়ের সংস্কৃতি আরও গভীর হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

0 Comments