দলীয় প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রে "আওয়ামী লীগপন্থী" তকমা, কিন্তু তৃণমূলের আস্থা ও জনপ্রিয়তায় এগিয়ে সাবেক সেনা কর্মকর্তা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ি) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ তীব্র আকার ধারণ করেছে। চার দশকের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের একচেটিয়া দখলে থাকা এই আসনটি পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছে বিএনপি। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, একমাত্র লে. কর্নেল (অব.) মো. আসাদুল ইসলাম ওরফে কর্নেল আজাদই এই আসনটিতে বিজয়ের ধারা ফেরাতে সক্ষম।
১৯৮১ সালের পর থেকে এই আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেননি। বরাবরই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে হার মেনে ফিরতে হয়েছে ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম, আসিকা আকবর কিংবা শিল্পপতি ফকির মাহবুব আনামদের। এবার ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপির জন্য এসেছে নতুন সম্ভাবনা। তবে দলীয় কোন্দল ও বিভাজনের কারণে সুবিধাজনক অবস্থান এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
প্রার্থী পরিচিতি ও জনপ্রিয়তার কারণ
চৌকস সেনা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবনে সততা, মেধা ও দেশপ্রেমের প্রমাণ রেখে ২০১৬ সালে বাধ্যতামূলক অবসরে যান কর্নেল আজাদ। অবসরের পর থেকে মিরপুরে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি মধুপুর-ধনবাড়িতে শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অসহায় মানুষের কল্যাণে অসংখ্য উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তৃণমূল বিএনপির কর্মীরা তাকে "দানবীর ও কর্মীবান্ধব নেতা" হিসেবে বর্ণনা করেন।
অপপ্রচারের অভিযোগ
কর্নেল আজাদের ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে "আওয়ামী লীগপন্থী" ও "ফ্যাসিস্টের দোসর" আখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে। ৫ আগস্ট সরকারের পতনের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে বিজয় মিছিলে বাধা, অফিসে হামলা ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে।
একটি বিনিয়োগ চুক্তিকে কেন্দ্র করেও অপপ্রচার চলছে। আজাদের ভাষ্য অনুযায়ী, "একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে চুক্তি অনুযায়ী ফেরত দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীর গ্যারান্টর ছিলেন তৎকালীন এক সেনা কর্মকর্তা, যিনি পরে গ্রেফতার হন। এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই।"
প্রার্থী নিজেই যা বললেন
লে. কর্নেল আজাদ বলেন, "আমার একটি অনুষ্ঠানে সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি ইলিয়াস মোল্লা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে তার লোকজন প্রকল্পের ব্যানার সরিয়ে নিজেদের নির্বাচনী ব্যানার টানায়। এখন সেই ছবিই অপপ্রচারের জন্য ব্যবহার হচ্ছে। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। মধুপুর-ধনবাড়ির মানুষ আমাকে ভালোবাসেন, আমি তাদের অধিকার আদায়ে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়ব।"
তৃণমূলের প্রত্যাশা
স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিশ্বাস করেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে কর্নেল আজাদ বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করবেন। তাদের ভাষায়, "যত অপপ্রচারই হোক, জনতার ভালোবাসা তার পক্ষে। তিনি নেতা নন, মানুষের সেবক।"
মধুপুর-ধনবাড়ি আসনে রাজনৈতিক লড়াই এবার শুধুমাত্র দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং একটি ব্যক্তিত্বকে ঘিরে আস্থা বনাম অপপ্রচারের দ্বন্দ্বে রূপ নিচ্ছে। নির্বাচনী মাঠে শেষ পর্যন্ত কে টিকে থাকবেন—তা নির্ভর করছে দলের ভেতরে ঐক্য, জনসমর্থন ও প্রচারণা যুদ্ধে কে এগিয়ে থাকবেন তার ওপর।
0 Comments