বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা রিয়াদের সহযোগীদের ধরতে অভিযান, সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের আতঙ্কে গুলশানবাসী
রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগ নেত্রীর বাসায় চাঁদা আদায় করতে গিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা আব্দুল রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদের পাঁচ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে রিয়াদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং গুলশান এলাকার কুখ্যাত চাঁদাবাজ শাহ আশিকুল ইসলাম এখনও পলাতক রয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এই সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই গুলশান ২ নম্বরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মি আহমেদের বাড়িতে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করতে যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাঁচ কর্মী। এ সময় তাদের হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন কাজী গৌরব অপু, সাকদাউন সিয়াম, সাদমান সাদান, মো. ইব্রাহিম হোসেন এবং আমিনুল ইসলাম। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এই ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা করেন সিদ্দিক আবু জাফর। মামলায় আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম শাহ আশিকুল ইসলাম।
শাহ আশিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পূর্বে একটি মার্চেন্ডাইজ কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সময় বিভিন্ন অনিয়ম ও কোম্পানির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তিনি কোম্পানির মালিককে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন। গুলশানে মালিকের বাসার সামনে গিয়ে তিনি পরিবারকে প্রাণনাশের ভয়ও দেখান। ৩০ জুলাই রিভিয়ারা কম্পোজিট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রধান সমন্বয়কারী ও হিসাব কর্মকর্তা খান গোলাম মো. আজাদ গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করে এই তথ্য জানান।
পুলিশ বলছে, শাহ আশিকুল ইসলাম একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই চক্র গুলশান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দখলবাজি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ইতিমধ্যে গ্রেফতার হওয়া পাঁচজনের জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ মনে করছে, পলাতক শাহ আশিকুল ইসলামই চক্রটির মূল সমন্বয়কারী। তাকে ধরতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, "চাঁদাবাজির সঙ্গে যারা জড়িত, তারা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। শাহ আশিকুল ইসলামকে গ্রেফতারে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।" এ ঘটনায় গুলশান এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ আশা করছেন।
0 Comments