নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘ডাল ও তেলবীজ উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’ বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে যে, তিনি তার কার্যালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের সহকর্মীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক নির্দিষ্ট হারে মাসিক চাঁদা আদায় করছেন। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চাকরিচ্যুতি, ওএসডি করার হুমকি, কিংবা ভুয়া ভাউচারে স্বাক্ষর নিতে চাপ প্রয়োগসহ বিভিন্নভাবে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানানো হয়েছে, পিডি শফিকুল ইসলাম প্রকল্পের বিভিন্ন তহবিল ও বিল পাসের অজুহাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে নিয়মিত নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তার অধীনস্থ সিনিয়র কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিমাসে ১ লক্ষ টাকা এবং যুগ্ম পরিচালকদের কাছ থেকে প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা করে বাধ্যতামূলকভাবে আদায় করছেন। এছাড়াও, মাঠপর্যায়ের স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ভুয়া ভাউচারে স্বাক্ষর নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যারা তার এই অনৈতিক নির্দেশ ও চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন, তাদের নানাভাবে কোণঠাসা করে রাখা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ডাল ও তেলবীজ প্রকল্পের আওতায় বীজ ও কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রেও পিডি শফিকুল ইসলাম ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন। বাজারমূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেশি দামে নিম্নমানের বীজ কিনে তা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে অনেক এলাকায় কাঙ্ক্ষিত ফলন না আসায় সরকারের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই কেনাকাটার কমিশন ও দুর্নীতির টাকা আড়াল করতে এবং নিজস্ব সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখতে তিনি অফিসের সহকর্মীদের ব্যবহার করছেন এবং তাদের কাছ থেকেই মোটা অঙ্কের এই মাসিক চাঁদা আদায় করছেন।
ভুক্তভোগী এক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা সরকারি নিয়মে চাকরি করি। কিন্তু পিডি স্যারের দফতরে আমাদের পকেটের টাকা দিয়ে টিকে থাকতে হচ্ছে। সিনিয়রদের কাছ থেকে ১ লক্ষ এবং যুগ্ম পরিচালকদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে প্রতিমাসে দিতে আমরা বাধ্য হচ্ছি। প্রতিবাদ করলে চাকরি খেয়ে ফেলার বা ঢাকার বাইরে দুর্গম এলাকায় বদলির হুমকি দেওয়া হয়।"
এই বিষয়ে জানতে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) শফিকুল ইসলামের অফিসে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাঁদা আদায়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। এটিকে তার বিরুদ্ধে একটি মহলের ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেন।
তবে ডাল ও তেলবীজ উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের মতো একটি স্পর্শকাতর ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে এমন প্রকাশ্য চাঁদাবাজি এবং অনিয়মের ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভুক্তভোগী কৃষি কর্মকর্তারা।
0 Comments