ষ্টাফ রিপোর্টার:
সাবেক ক্ষমতাসীন দলের বিতর্কিত সহযোগী এবং গত জুলাই মাসে সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণে অর্থ যোগানদাতা ও হত্যা মামলার আসামি ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ছত্রছায়ায় পুনর্বাসিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা ১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানের আস্থাভাজন হিসেবে এলাকায় নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকা এবং হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করার অভিযোগেও তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের কতিপয় নেতার প্রচ্ছন্ন সহায়তায় নিজেকে আড়াল করে ‘নব্য জাতীয়তাবাদী’ পরিচয়ে তিনি আবারও নানাবিধ অপকর্মে লিপ্ত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রমতে, ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ একসময় ঢাকা ১৩ আসনের সাবেক এমপি সাদেক খানের 'সেকেন্ড ইন কমান্ড' হিসেবে কাজ করতেন। সে সময় এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা অপরাধের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। এই সময়ে ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ। গত ২৪ জুলাইয়ের গণবিক্ষোভে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় শেখ হাসিনাসহ ৩৪৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা (মামলা নং- ২৮৪) রয়েছে, যেখানে ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ ৩৩৪ নম্বর আসামি। ঢাকার উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কমিশনার আসিফ ও রাজীবেরও একান্ত ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন তিনি। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দীর্ঘদিন ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ পলাতক ছিলেন।
পরে, বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় তিনি কৌশলে ধীরে ধীরে লোকালয়ে আসতে শুরু করেন। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিএনপির ওই নেতাকে ম্যানেজ করে তিনি আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারকারী এই ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ ইউরোপ থেকে বাংলাদেশে গোপনে হুন্ডির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নানা কর্মসূচিতে অর্থ যোগান দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের সঙ্গেও তিনি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
অপর একটি সূত্র জানায়, মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ, সন্ত্রাসী কমিশনার রাজীব ও সন্ত্রাসী কমিশনার আসিফসহ সকলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে ইয়াসির অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ-বাণিজ্য পর্যন্ত সকল অপকর্মে নিয়োজিত ছিলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক দীন মুহাম্মদ নুরুল হকের পুত্র আসিফ নূরসহ এই ইয়াসির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সকল কাজ 'পার্সেন্টিজ বাণিজ্যের' মাধ্যমে করেছেন বলে অভিযোগ। তাদের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে একরকম ধস নেমে আসে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কুখ্যাত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লেক্সিকন এই ইয়াসিরের মাধ্যমেই সাবেক মহাপরিচালক দীন মুহাম্মদ নুরুল হক ও তার পুত্র আসিফ নূরকে নিয়মিত ঘুষ বা উৎকোচ প্রদান করত বলেও জানা গেছে।
বর্তমানে দেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য এই ইয়াসির ইউরোপ থেকে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা গেছে। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদের সঙ্গে ইয়াসির একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছেন বলেও বিশ্বস্ত সূত্র দ্বারা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নানা অপকর্মের হোতা এবং সাবেক সরকারের কথিত এই সহযোগী কিভাবে এখনও প্রভাব খাটিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নাম ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশে পাচার করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
0 Comments