স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নগর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-ই খোদার বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ধানমন্ডি হাজারীবাগ এলাকার বাসিন্দা জাবেদ শেখ দুদক বরাবর এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে ২০০৪ সালের ৩ নভেম্বর রাজউকে যোগদান করা নূর-ই খোদা মাত্র ২১ বছরের কর্মজীবনে কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। এককালের জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার গঙ্গাপাড়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান নূর-ই খোদা বর্তমানে ওই থানার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার নিজ এলাকায় একাধিক ভবন ও রাইস মিল প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে জানা যায়।
সূত্রমতে, রাজউকে তিনি ‘প্রধান খলিফা’ হিসেবে পরিচিত এবং তার হাতেই ড্যাপের প্ল্যানপাস ছাড়পত্র প্রদানের একক ক্ষমতা রয়েছে। তার স্বাক্ষর ছাড়া কোনো ভবনের প্ল্যান পাস করা সম্ভব নয়। ভবনের তলার মাপ অনুযায়ী ঘুষের হারও নির্ধারিত বলে অভিযোগ। ১ থেকে ৬ তলা ভবনের প্ল্যান পাসের জন্য ১০ লাখ টাকা, ৬ থেকে ১০ তলা পর্যন্ত ২০ লাখ টাকা এবং ২০ তলা পর্যন্ত ভবনের প্ল্যান পাসের জন্য ৪০-৫০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও জানানো হয়েছে, বর্তমান রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজুকে ‘ম্যানেজ’ করে নূর-ই খোদা এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। ঢাকা শহরসহ সাভার, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ এবং অন্যান্য এলাকার হাউজিং কোম্পানিগুলোর ভবনের ছাড়পত্র তার স্বাক্ষর ছাড়া অনুমোদন পায় না। বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানি তার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে কাজ করছে এবং এর মাধ্যমে তিনি বছরে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার ঢাকা উত্তরায় ৮ তলা বিশিষ্ট ৬ ইউনিটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বাড়ি রয়েছে, যার বর্তমান বাজার মূল্য ৫০ কোটি টাকার বেশি। এছাড়াও ঢাকা জেলার সাভার-আশুলিয়া এলাকায় তার শত শত বিঘা জমি, কমপক্ষে ২০টি ফ্ল্যাট, ১৫টি প্লট এবং স্ত্রী-সন্তানদের নামেও অঢেল সম্পত্তি রয়েছে। তার নানা অপকর্ম নিয়ে একাধিক পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও চেয়ারম্যানের আশীর্বাদে তিনি অপকর্ম করার সাহস পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, নূর-ই খোদা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে ঘুষ বাণিজ্য পরিচালনা করেন। ফাইল আটকে রেখে নকশার অনুমোদন না দিয়ে ঘুষের দর কষাকষি করাই তার কাজ। হাউজিং কোম্পানিগুলো থেকে নকশা অনুমোদনের নামে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। রাজউকের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে গোটা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তাদের মধ্যে নূর-ই খোদা অন্যতম। বিভিন্ন সরকারের আমলেও তিনি একইভাবে দাপটের সাথে দুর্নীতি করে আসছেন বলে ওই কর্মকর্তারা দাবি করেন।
0 Comments