অবৈধ স্পা ও শীশা বার থেকে বনানী থানার অপারেশন অফিসার মঈন উদ্দিনের মাসোহারা কোটি টাকা



রাজধানীর বনানীতে অনুমোদনহীন স্পা ও শীশা বারের সংখ্যা দিনের পর দিন বাড়ছে, আর এসব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে চলছে ভয়াবহ মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যক্রম - এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বনানী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) এ কে এম মঈন উদ্দিন, যিনি নাকি মোটা অঙ্কের মাসিক ঘুষের মাধ্যমে এসব অবৈধ কার্যক্রম চালাতে সহযোগিতা করে আসছেন।

সূত্র বলছে, বনানীর '৩৬০ ডিগ্রি সিসা লাউঞ্জ', 'কিউডিএস', '৩২ ডিগ্রি', 'সেলসিয়াস', 'আরগিল লাউঞ্জ' ও 'এস্কেটিক লাউঞ্জ'সহ বেশ কিছু অনুমোদনহীন শীশা বার বহুদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে। এসব বারে নিয়মিতভাবে ব্যবহৃত হয় মদ, গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। রাত গভীর হলে ধনী পরিবারের তরুণ–তরুণীদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে এসব বার, যেখানে চলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডও।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্র আরও জানায়- রাহাত হোসেন রাব্বী নামের এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর এ কে এম মঈন উদ্দিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান এবং তার পর থেকে এলাকাব্যাপী শীশা বারের মাসোহারা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি বার থেকেই তিনি মাসে তিন থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণ করেন এবং তা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে সংগ্রহ করা হয়।

শুধু শীশা বার নয়, বনানীর বিভিন্ন স্পা সার্ভিস সেন্টারেও চলছে অনৈতিক কার্যক্রম। অনুমোদনবিহীন এসব স্পার তালিকায় রয়েছে- আলোরী স্পা, স্পা সারিনি, থাই ম্যাসেজ, হ্যাপি আওয়ার স্পা, ব্লিস স্পা, ঢাকা বডি কুইন স্পা, সিগনেচার ওয়ান, ওয়ান ওয়ে থাই স্পা, গুলশান রোজ স্পা, জি স্পা বনানীসহ আরও বেশ কয়েকটি নাম। প্রতিটি স্পা থেকে মাসিক চার লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এছাড়া কড়াইল বস্তির মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও নিয়মিত মাসোহারা গ্রহণের প্রমাণ মিলছে তদন্তে। বস্তির বিভিন্ন স্পটে দিনে – রাতে চলে মাদক বেচাকেনা, আর এসব কর্মকাণ্ডে স্থানীয় পুলিশের নীরব ভূমিকা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এ কে এম মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে আরও রয়েছে - মামলা দিয়ে ভয় দেখিয়ে আটক রেখে অর্থ আদায়, অর্থলোভে মানবপাচার মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ছেড়ে দেওয়া, পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করা ও বিচারপ্রার্থী নাগরিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ। সম্প্রতি আদালত মানবপাচার মামলায় আটক ফখরুল ইসলামকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয় এবং তলবের মুখে বনানী থানার ওসি লিখিতভাবে ক্ষমা চান।

জনমত বলছে - এই কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকলে এলাকায় অপরাধ দমন নয় বরং মাদক, অনৈতিক কার্যক্রম ও চাঁদাবাজি আরও বৃদ্ধি পাবে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুমকিও এসেছে নাগরিকদের পক্ষ থেকে।

Post a Comment

0 Comments