গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের পৈতৃক জমি ফেরত, ২০১৬ সালে তিন আদিবাসী হত্যার বিচার এবং সরকারের প্রস্তাবিত ইপিজেড নির্মাণ বন্ধের দাবিতে আজ ঢাকার শাহবাগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় আদিবাসী ছাত্র ও যুব সংগঠনসমূহ।
২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মে রংপুর চিনিকলের জমি দখলকে কেন্দ্র করে সাঁওতালদের উপর পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের এক যৌথ হামলায় নিহত হন তিনজন সাঁওতাল—শ্যামল হেমব্রম, মঙ্গল মার্ডি ও রমেশ টুডু। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় শতাধিক ঘরবাড়ি, লুটপাট ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। প্রতিবাদের মুখে ১৬ নভেম্বর অজ্ঞাতনামা কয়েকশ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হলেও, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে দায়ের করা এজাহার রেকর্ড করা হয়নি। ভিডিও প্রমাণে পুলিশের জড়িত থাকার বিষয়টি হাইকোর্টে প্রমাণিত হলেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি এখনো।
অভিযোগ উঠেছে, জমির মালিকানা স্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও ২০০৪ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকল সংলগ্ন এই জমিতে বেপজা কর্তৃক ইপিজেড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অথচ ১৯৬২ সালের সরকারি চুক্তিপত্র অনুযায়ী জমিতে ইক্ষুচাষ বন্ধ হলে, তা খেসারতসহ মূল মালিকদের ফেরত দেওয়ার কথা। আদিবাসী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই চুক্তি লঙ্ঘন করে জমি দখলের অপচেষ্টা চলছে।
বক্তারা জানান, বাংলাদেশ সরকার ILO কনভেনশন ১০৭ ও জাতিসংঘ ঘোষিত আদিবাসী অধিকার সনদ (UNDRIP)-এ স্বাক্ষরকারী হয়েও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পালন করছে না। উন্নয়নের নামে আদিবাসীদের উচ্ছেদ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলে তারা মনে করেন।
আন্দোলনকারীরা ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন:
সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মের দখলকৃত জমি সাঁওতালদের ফিরিয়ে দেওয়া
তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার ও দায়ীদের গ্রেপ্তার
আহতদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন
ইপিজেড নির্মাণ পরিকল্পনা বাতিল
আদিবাসীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার
সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন ও মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা
প্রতিবাদকারীরা জানান, এ দেশের নাগরিক হিসেবে ন্যায্যতা ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার আদিবাসীদের রয়েছে। সরকারের উচিত, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে আদিবাসীদের স্বাধীন ও পূর্ণ সম্মতি গ্রহণ করা।
📢 প্রচারে: আদিবাসী ছাত্র ও যুব সংগঠনসমূহ
0 Comments