স্টাফ রিপোর্টার: জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য এবং বিদেশগামী শ্রমিকদের হয়রানির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের লিখিত অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে দুদক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর মো. আবু জাফর নামে এক ব্যক্তি মাসুদ রানার সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এছাড়া গত ১২ মে জনৈক মিন্টু মিয়াও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব-এর কাছে এ বিষয়ে আরেকটি লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মো. মাসুদ রানা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন এবং তার অনিয়মের কারণে বিএমইটি-এর কর্মকর্তারা অস্থির হয়ে উঠেছেন। অভিযোগ মতে, তিনি ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইলে সই করেন না। সাবেক প্রতিমন্ত্রী সুুফিয়া জাহান মুুন্নীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে নির্ভয়ে দু’হাত ভরে অবৈধ টাকা কামিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, বিএমইটির পরিচালক মো. মাসুদ রানা দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশগামী শ্রমিকদের ফাইল আটকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছেন। এছাড়া সারাদেশে অবস্থিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষ ও কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগও তোলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীর তথ্যানুযায়ী, মো. মাসুদ রানা নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার চানপুর গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগে তাঁর এবং তাঁর স্ত্রী উন্মে ছালমা শেখেের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র ও টিআইএন নম্বর সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ করে তাঁদের নামে-বেনামে অর্জিত সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়, মাসুদ রানা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান, নিকেতন ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, উত্তরায় দুটি বাড়ি, সাভারে জমি এবং গ্রামের বাড়িতে একটি বিলাসবহুল ভবন রয়েছে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থ জমা এবং বিদেশে ব্যবসা ও স্থাবর সম্পদে বিনিয়োগের বিষয়টিও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগকারীদের মতে, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রায় ৪ থেকে ৫শ’ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য উন্মোচিত হতে পারে।
একাধিক অভিযোগ দাখিল হওয়া সত্ত্বেও বিএমইটি কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত মাসুদ রানার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে জানা যায়। একজন পরিচালকের পক্ষে শত কোটি টাকার মালিক হওয়া নিয়ে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
উত্থিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পরিচালক মো. মাসুদ রানার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে সংক্ষিপ্ত বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
0 Comments