নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) ডাল ও তৈলবীজ বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, বরাদ্দ নিয়ে নয়-ছয় এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় মনগড়া নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নীতি নির্ধারণী ও মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমে যুক্ত দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ড. মোঃ শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগের কারণে সরকারের ডাল ও তৈলবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের মূল লক্ষ্য ভেস্তে যেতে বসেছে।
পছন্দের ঠিকাদার বাঁচাতে মনগড়া নিয়মের জাল
অনুসন্ধানে জানা যায়, ডাল ও তৈলবীজ প্রকল্পের অধীনে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র সংস্কার এবং অবকাঠামোগত বিভিন্ন কাজের টেন্ডারে (দরপত্র) উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ড. শফিকুল ইসলাম পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) লঙ্ঘন করে নিজের পছন্দের ও পকেট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে মনগড়া এবং অদ্ভুত সব শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন। যোগ্য ও অভিজ্ঞ ঠিকাদাররা যাতে অংশ নিতে না পারেন, সেজন্য দরপত্রে এমন কিছু অযৌক্তিক অভিজ্ঞতা ও কারিগরি শর্ত যুক্ত করা হচ্ছে যা কেবল তার নির্ধারিত সিন্ডিকেটের ঠিকাদারদের সঙ্গেই মিলে যায়। এর ফলে অন্য কোনো ঠিকাদার দরপত্র জমা দিতে পারছেন না, আর দিলেও তা শুরুতেই বাতিল করা হচ্ছে।
নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অর্থ লোপাট
এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ও উপকরণ কেনা হচ্ছে। বিভিন্ন অঞ্চলে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন ও বীজ বিতরণের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সরকারি তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে মানসম্মত বীজ ও সার বিতরণের কথা বলা হলেও বাস্তবে তারা নিম্নমানের ও কম পরিমাণ উপকরণ পাচ্ছেন।
মাঠ পর্যায়ে ক্ষোভ
অভিযোগ উঠেছে, যোগ্য ও সৎ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিজের অনুগত ও প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে পদায়ন করেছেন তিনি, যাতে অনিয়ম ও মনগড়া নিয়মের টেন্ডার প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়। এর ফলে মাঠ পর্যায়ে বীজ উৎপাদন এবং বিতরণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএডিসির এক কর্মকর্তা জানান, ঊর্ধ্বতন মহলের দোহাই দিয়ে এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন।
কৃষিখাতের এই স্পর্শকাতর প্রকল্পে এমন লাগামহীন অনিয়ম ও টেন্ডার বাণিজ্য চলতে থাকলে ডাল ও তৈলবীজের উৎপাদন বৃদ্ধির জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে। ভুক্তভোগী ঠিকাদার, সাধারণ কৃষক ও সংশ্লিষ্ট মহল অবিলম্বে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
0 Comments