৩ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আর্টিকেল স্ট্রাকচার লিমিটেডের এমডির বিরুদ্ধে; দুদকে অভিযোগ

আর্টিকেল স্ট্রাকচার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইঞ্জিনিয়ার মোঃ তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার কোটি টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে। এই মর্মে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তরিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের আপন বড় ভাই রফিকুল আলম চুন্নুর পারিবারিক গুপ্তধনের মালিক এবং হানিফের ক্ষমতা ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়েছেন। তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।

দুদকে জমা পড়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একসময় আর্টিকেল স্ট্রাকচার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছিলেন রফিকুল আলম চুন্নু। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, মাহবুব-উল আলম হানিফের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে মোঃ তরিকুল ইসলাম মিরপুর ডিওএইচএস এর আশেপাশে শত শত বিঘা জমি ক্রয় করেছেন, যার পেছনে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। আর্টিকেল স্ট্রাকচার লিমিটেডের কাছে হাজার হাজার কোটি টাকার আয়ের কোনো বৈধ উৎস নেই বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রী, এমপি, আমলা, পুলিশ ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের অবৈধ টাকা সাদা করার একটি মাধ্যম হিসেবে আর্টিকেল স্ট্রাকচার লিমিটেড ব্যবহৃত হতো এবং ইঞ্জিনিয়ার মোঃ তরিকুল ইসলাম এই কাজের জন্য মোটা অঙ্কের কমিশন গ্রহণ করতেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ তরিকুল ইসলামের ব্যবহৃত ইঞ্জিনিয়ার সনদটি জাল। এছাড়া, তিনি একজন 'ডিগবাজে উস্তাদ' হিসেবে পরিচিত এবং ৫ আগস্টের ঘটনার পর তিনি বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পায়তারা করছেন।

তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঢাকা সেনানিবাসের মাটি কাটা ও ভাষানটেক এলাকার মূল্যবান জমি দখল করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নামমাত্র বায়না করে শত শত বিঘা জমি দখল করেছেন এবং এই দখলকৃত জমি জায়েজ করার জন্য বিএনপির আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

মোঃ তরিকুল ইসলামের ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে অনলাইন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খাঁন মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগকারী আক্তারুজ্জামানকে ঢাকা সেনানিবাসের মাটি কাটা ও ভাষানটেক এলাকার সবচেয়ে বড় ভূমি খেকো হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অভিযোগ মতে, খান মোহাম্মদ আক্তার ও মোঃ তরিকুল ইসলাম সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এসএসএফ বাহিনীর প্রধানের সহযোগিতায় ঢাকা সেনানিবাসের আশপাশের মানিকদি, মাটি কাটা ও ইসিবি চত্বর এলাকায় 'রামরাজত্ব' কায়েম করেছেন। খাঁন মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান মাত্র কয়েক বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধেও দুদকের অনুসন্ধান চলছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

ইসিবি চত্বর এলাকায় আর্টিকেল স্ট্রাকচার লিমিটেড নামে প্রায় ত্রিশটি সাইনবোর্ড দেখা যায়। এই প্রতিষ্ঠানের নামে তার বিশাল জমি ও ফ্ল্যাট ব্যবসা রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এখানে তার প্রায় ২০ একর জায়গা রয়েছে, যার প্রতি কাঠা জমির দাম এক কোটি টাকা। এই জমির বাজারমূল্য তিন হাজার কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে মোঃ তরিকুল ইসলামকে তদবিরবাজ, প্রতারক ও জালিয়াত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার অভিযোগ রয়েছে। কেউ জমি বিক্রি করতে চাইলে তিনি নামমাত্র মূল্যে ভুয়া চেক দিয়ে জমি বায়না করে দখল করেন বলে অভিযোগ। অর্থপাচার, জালজালিয়াতি ও অন্যের জমি দখলের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদী, মাটি কাটা, ভাষানটেক এলাকার অর্ধশত পরিবারের বহু জমি তিনি অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অবৈধ দখলের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিদেশে মানি লন্ডারিং করে দেশে ও বিদেশে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে জানানো হয়েছে। মিরপুর ডিওএইচএস, ইসিবি, মাটি কাটা, মানিকদি এলাকার সাধারণ জমির মালিকদের কাছে তিনি এক আতঙ্কের নাম হিসেবে পরিচিত। কেউ বাধা দিতে চাইলে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

Post a Comment

0 Comments