রাজধানীতে হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে: গ্রেপ্তারে পুলিশের রহস্যজনক নীরবতা




রাজধানীর বংশাল থানা এলাকায় প্রেমজনিত ঘটনায় নিহত সজীবের হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও এখনো তাদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, আসামিরা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

নিহতের পরিবার অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গতকাল সোমবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানায় নিহত সজীবের পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিহতের বোন প্রিয়াংকা আক্তার অনিকা, শান্তা আক্তার, বোন জামাই মো. কায়কোবাদ ও ভাবি তাহমিনা তৃষা প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে শান্তা আক্তার জানান, তার ভাই সজীবের সঙ্গে বংশাল থানা এলাকার ৯৩/১ আগামসি লেনের চতুর্থ তলায় বসবাসকারী খাদিজা নামের এক মেয়ের ৪-৫ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর খাদিজার পরিবারের সদস্যরা সম্পর্কটি মেনে নেয়নি।

গত ২৫ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে খাদিজার সঙ্গে দেখা করতে ওই বাসায় যান সজীব। পরে সন্ধ্যায় খাদিজাদের বাসার সিঁড়িতে সজীবের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার হাত-পা, গলা ও কোমরে জিআই তার প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহটি পড়ে ছিল।

শান্তা আক্তার অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে বংশাল থানা পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। দুই দিন পর স্থানীয়ভাবে ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলে পুলিশ অবশেষে মামলা নেয়, তবে কোনো আসামির নাম লিখতে নিষেধ করে।

পরে স্থানীয়দের দাবির মুখে মামলায় খাদিজার মামা প্রবাসী হাজী মো. কামাল হোসেন ও মো. হুমায়ুন কবিরের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তাদের গ্রেপ্তারে রহস্যজনকভাবে অনীহা দেখাচ্ছে পুলিশ।
(বংশাল থানার মামলা নং–১৭, তারিখ: ২৯/১০/২০২৫ ইং)

তিনি আরও বলেন, সজীব হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে খাদিজার মামা হাজী মো. কামাল হোসেন তার বাবাকে হুমকি দিয়েছিল—"সজীব যদি খাদিজার সঙ্গে সম্পর্ক রাখে, তাকে মেরে ফেলা হবে।"

পরবর্তীতে জানা যায়, মামলার আসামি কামাল হোসেন মামলা দায়েরের পর বংশাল থানায় গিয়ে ওসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এক লাখ টাকা দেয় এবং আরও টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিদেশে যাওয়ার আগ পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম বন্ধ রাখার চেষ্টা করে।

সজীবের পরিবারের দাবি, আসামিরা এখনো এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, কিন্তু তাদের গ্রেপ্তারের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

Post a Comment

0 Comments