শহীদ ডাকুয়া - জাতীয় কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক
জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক শহীদ ডাকুয়া এখনও তার সংগঠন নিয়ে প্রতিদিন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তিনি বহাল তবিয়তে এখনও বিদ্যুৎ ভবনের শ্রমিক লীগ অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন। শহীদ ডাকুয়ার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ আমলে নানা অপকর্মের অভিযোগ এনে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় শ্রমিক লীগের শত শত অনুষ্ঠানে তার নেতৃত্বে মিছিল ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হতো। প্রতি বছর বহু দিবসে বঙ্গবন্ধুর মাজারে ফুলের শ্রদ্ধা জানাতেন। শেখ হাসিনাকে খুশি করার জন্য তিনি প্রতিদিনই শ্রমিক লীগের সদস্যদের নিয়ে কোনো না কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন।
সূত্র জানায়, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি নূর কুতুব আলম মানান এবং সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু। ৫ আগস্টের পর এই দুই শ্রমিক নেতা পলাতক থাকলেও শহীদ ডাকুয়া বর্তমানে জাতীয় শ্রমিক দলের সঙ্গে মিশে এখন সেই দলের একজন বড় নেতা। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তরের জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলেন জাকির হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাক মাতবর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ ভবনের এক কর্মচারী জানান, শহীদ ডাকুয়া জাতীয় কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের শিক্ষা ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক হওয়ার কারণে তিনি নিয়োগ, বদলি বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মে জড়িত ছিলেন। এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তিনি করেননি। অফিসের কাউকেই তিনি তোয়াক্কা করতেন না। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারণে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন। এখনও বহাল তবিয়তে বিদ্যুৎ ভবনে এসে জাতীয় শ্রমিক দলের সঙ্গে কাজকর্ম শুরু করেছেন।
শহীদ ডাকুয়া বিদ্যুৎ ভবনে এক আতঙ্কের নাম ছিল। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরও তার কক্ষে শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার ছবি টানানো ছিল। তার বাসায় এখনো শত শত নেতাকর্মীর সঙ্গে তোলা ছবি সংরক্ষিত আছে। অতিদ্রুত দল পরিবর্তন করে এখন তিনি বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেন্দ্রীয় জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গা ঢাকা দিলেও শহীদ ডাকুয়া বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এ ব্যাপারে শহীদ ডাকুয়ার সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
0 Comments