রাজউকের এডি আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত: ‘সম্পদের পাহাড়’ উন্মোচিত



রাজউকের এস্টেট ও ভূমি-২ শাখার সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস সাত্তার


দীর্ঘ ১৮ বছরের চাকরি জীবনে শত কোটি টাকার মালিকানা, ভুয়া ছাড়পত্র ও অনিয়মের অভিযোগ; দুদকের অনুসন্ধান অব্যাহত


রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এস্টেট ও ভূমি-২ শাখার সহকারী পরিচালক (এডি) মো. আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে 'সম্পদের পাহাড়'। দীর্ঘ ১৮ বছরের চাকরি জীবনে তিনি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে একাধিকবার নোটিশ পাঠিয়ে সম্পদের হিসাব চাওয়া হলেও তিনি সঠিক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কীভাবে গড়ে উঠল সম্পদের পাহাড়

চাকরির শুরুতে পূর্বাচল এস্টেটে মাত্র তিন বছর দায়িত্ব পালনকালে ভুয়া ছাড়পত্র দিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন আব্দুস সাত্তার। পরবর্তী সময়ে তেজগাঁও, মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মোহাম্মদপুর ও আদাবরসহ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সার্ভেয়ারের দায়িত্ব পান তিনি। এ সময়ে ভুয়া নকশা ছাড়পত্র, ছবি পরিবর্তনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেন।

রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভুয়া নকশা অনুমোদনের বিনিময়ে প্রতি ক্ষেত্রে তিনি পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণ করতেন। শাহজাহানপুরে এক ভুয়া নকশা অনুমোদনের ঘটনায় স্থানীয়দের হাতে গণধোলাইয়ের শিকারও হয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ মুহূর্তে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে শাস্তি এড়ান।

রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়

সূত্র মতে, আব্দুস সাত্তার দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন। তবে বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে নেতৃত্বে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তার মূল ভরসা রাজউকের বর্তমান মেম্বার (অ্যাডমিন) গোলাম মোস্তফা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বড় অংশ তার প্রভাবে নীরব থাকছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও অভ্যন্তরীণ মতামত

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেন,

"অসাধু কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তারের মতো লোকের কারণে পুরো ডিপার্টমেন্ট আজ দুর্নীতির দায় স্বীকার করছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নিলে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হবে।"

অন্যদিকে, গত ২৩ আগস্ট দুপুরে প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে আব্দুস সাত্তার সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার ভাষায়,

"আমি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই।"

এ ব্যাপারে রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

রাজউকের একজন সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে এমন বিপুল দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আবারও প্রমাণ করছে যে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনো সরকারি সংস্থায় দুর্নীতি রোধ সম্ভব নয়। এখন সবার নজর দুদকের চলমান তদন্তের ফলাফলের দিকে।

Post a Comment

0 Comments